নিষিদ্ধ যুবলীগ কর্মীর মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে

নিষিদ্ধ যুবলীগ কর্মীর দায়ের করা মামলায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোলা জেলা দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন না-মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে তার পরিবার ও বিএনপি কর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বাদীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আসামিরা বাদীর বসতঘরে তালা দেয় এবং বাদীকে মারধর করেন।
জানা গেছে, মামলায় তার দুই ছেলেকেও আসামী করা হয়েছে। তারা উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। বুধবার নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত দুই ছেলের জামিন মঞ্জুর করলেও আলামগীর মালতিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী যুবলীগ কর্মী মো. ছালাম বলেন, ‘আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আমার বসতঘরে তালা দিয়ে আমাকে মারধর করেছে। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে দেননি, থানায় মামলা করতেও দেননি। পরে আমি আদালতে মামলা করেছি।’
এদিকে বর্ষিয়ান এ নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, আলমগীর মালতিয়ার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ চরফ্যাশন উপজেলা যুবলীগ কর্মী মো. ছালাম বাদী হয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলাটি দায়ের করে।
বিএনপির তৃণমূল নেতা হোসেন খান বলেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে আলমগীর মালতিয়া ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অটল-অবিচল ভুমিকা পালন করেছেন। বিএনপিকে সংগঠিত রাখতে তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মিথ্যা মামলায় তার কারাগারে যাওয়ার ঘটনা হতাশাজনক।’
দলটির উপজেলা পর্যায়ের আরেক নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপির কিছু নেতার সহায়তায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনেক অপরাধী পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছে। তারাই এখন এনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিচ্ছে।
এ ঘটনায় মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বড় ছেলে ফাহাদ হোসেন মালতিয়া সাংবাদিকদের জানায়, ‘বিরোধপূর্ণ জমিগুলো আমার দাদা ওয়াহেদ আলী মালতিয়ার। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাদীপক্ষ ক্ষমতার প্রভাব দিয়ে দখলে নেয়। জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরফ্যাশন আদালতে ভিন্ন একটি দেওয়ানি মামলা রয়েছে। অথচ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ওই যুবলীগ নেতাকে দিয়ে আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করেছে। আমরা মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপকূলীয় মানবাধিকার সংগঠন রাইটস ফর কোস্টাল পিপল (আরসিপি) এর চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক বলেন, ‘আলমগীর মালতিয়া বিএনপির ত্যাগী নেতা। বিগত সরকারের সময়ে তিনি বিএনপিকে বলিষ্ঠভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন যদি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাকে জেলে যেতে হয় সেটি বেদনাদায়ক। তাকে কারাগারে পাঠানোর পর অনেক মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই ঘটনায় যতটুকু জানা যাচ্ছে জমি জমা বিরোধের একটি দেওয়ানি মামলা চলমান আছে। এই অবস্থায় একই ঘটনায় চাঁদাবাজির মামলা প্রতিহিংসামূলক বলেই মনে হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুবলীগ কর্মীর দ্বারা এ ধরণের মামলার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরণের অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।’













