চাকরি নয়, বেদানা চাষেই দম্পতির সাফল্য

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা শেষ করেন শিবলী সাদিক। কাজ পাচ্ছিলালেন না। ভারতে বেড়াতে গিয়ে বেদানার চারা এনে রোপণ করে ভালো ফলন পান। স্ত্রীর পরামর্শে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে দুই বিঘা জমিতে ৩০০ বেদানার কলম রোপণ করেন। ছয় মাস পর থেকেই ফল আসা শুরু হয়। ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী গ্রামে সমতল ভূমিতে বেদানা চাষ করেছে কৃষি উদ্যোক্তা শিবলী সাদিক ও তাবাসসুম তাসনিম দম্পতি। তাদের বেদানা চাষের সাফল্যে প্রতিদিনই পার্শ্ববর্তী উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে দেখতে ও বেদানার চারা কিনতে আসছে মানুষ।
শিবলী সাদিক পেশায় একজন ব্যবসায়ী ও তাবাসসুম তাসনিম গৃহিণী। এই দম্পতি নিজেদের কাজের পাশাপাশি বেদানা চাষ করে রাজশাহীতে নজির স্থাপন করেছেন। তাদের উদ্যোগ এলাকার শত শত মানুষকে প্রেরণা জোগাচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সারি সারি গাছে লাল, গোলাপি ও ফ্যাকাসে রঙের বেদানা ঝুলে রয়েছে। আবার কোনো গাছে ফুল আসছে, কোনোটাতে ফুল থেকে ফলে রূপান্তর ঘটছে। কৃষি দম্পতির বাড়ির পাশের বেদানা বাগানের এমন দৃশ্য দেখতে ভিড় করছে মানুষ।
২০১৮ সালে ভারতে বেড়াতে যান শিবলী সাদিক। সেখান থেকে আনা বেদানার চারা বাড়ির উঠানে রোপণ করেন। সেই গাছ থেকে ১৫টি কলম তৈরি করে আশপাশে রোপণ করেন। দুই বছর পর ১৫টি গাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ৩০০টি কলম তৈরি করেন। ১৫ মাস আগে দুই বিঘা জমিতে সেই গাছ রোপণ করেন। ছয় মাস পর থেকে ১৬০টি গাছে ফল আসা শুরু হয়েছে। গত ৯ মাসে প্রতিটি গাছ থেকে চার কেজি করে বেদানা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি গাছের বাড়তি অংশ না ছেটে কলম তৈরি করে বিক্রিও করছেন। প্রতিটি কলমের দাম রাখছেন ৩৫০ টাকা। বেদানা ও কলম বিক্রি করে ৯ মাসে ৩ লাখ টাকা আয় করেছে এই দম্পতি।
তাবাসসুম তাসনিম বলেন, কৃষি কাজে বাবাকে সহযোগিতা করতাম। এখন নিজের সংসারের কাজের পর বাগানে সময় দিই। শ্রমিকও আছে। লোকজন এসে আমাদের বেদানার সুনাম করে। দু’জনের প্রচেষ্টায় পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। আরও পাঁচ বিঘা জমিতে বেদানার বাগান করব, জমি তৈরির কাজ চলছে।
শিক্ষক জাকারিয়া ইসলাম বলেন, দেশের মাটিতে বেদানা চাষ হচ্ছে। এটা ভালো দিক। প্রতিটি গাছে ফল ধরেছে, খেতেও ভীষণ সুস্বাদু। শিবলী ও তাসনিম দম্পতির বেদানা বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ভিড় করছেন– এটা আমাদের গ্রামের জন্যও গর্বের বিষয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান বলেন, নিজ উদ্যোগে বাগান গড়ে তুলেছে শিবলী ও তাসনিম দম্পতি। সারাবছরই তারা ফল বিক্রি করছেন। এ সফলতা দেখে এলাকার কৃষি উদ্যোক্তারাও আগ্রহী হচ্ছেন। আমরাও প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।