মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ৩ মাস ১৯দিন পর উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্ত সেলিম খন্দকার


সর্বশেষ
| ফজর | |
| জোহর | |
| আসর | |
| মাগরিব | |
| ইশা | |
| সূর্যোদয় | |
| সূর্যাস্ত |

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্তদের ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার ত্বরান্বিত করা, শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের বিচার, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবিতে চরফ্যাশনের দুলারহাট,শশিভূষণ ও দক্ষিণ আইচা থানায় পৃথক পৃথক ভাবে গণমিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার ( ১আগষ্ট) দুলারহাট,শশিভূষণ ও দক্ষিণ আইচা জামায়াতের নিজস্ব অফিস কার্যালয় থেকে পৃথক পৃথক মিছিল শুরু হয়। তিনটি মিছিল সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার দলীয় অফিসের সামনে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শশিভূষণে গণমিছিলে অংশ গ্রহণ করেন চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ শরীফ হোসাইন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট পারভেজ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কাসেম, এডভোকেট মহিবুল্লাহ মহিব প্রমুখ।
এতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মিছিলে বহন করা ব্যানারে উল্লিখিত দাবিগুলো তুলে ধরা হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দুঃশাসন, বৈষম্য ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন। তারা জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারের অগ্রগতি, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং এ লক্ষে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, আমাদের কারিগরি কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। আমার বিশ্বাস অন্তত পাইলট প্রকল্প হিসেবে হলেও এ বছরের শেষের দিকে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনার আলো দেখতে পাবো। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও চাওয়া-পাওয়ার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটবে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প এবং তিস্তার নদী ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বুড়ি তিস্তা পূর্নখননে বিগত সরকার ১৩০ কোটি টাকা দিয়ে পাঁচটি গ্রুপে কাজটা শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমরা ভুক্তভোগী মানুষ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে মামলা প্রত্যাহারসহ বুড়িতিস্তার এই সমস্যার সমাধান করব।
এছাড়াও তিস্তা নদী তীরবর্তী ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানী এলাকার তীব্র নদী ভাঙন পরিস্থিতি দেখে দ্রুত জিও ব্যাগ ও টিউব ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের সম্পদ সুরক্ষায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমাদের সরকারের কমিটমেন্ট একটাই, আমরা চাই না কোনো মানুষের একটি বাড়ি, একটি ঘর বা এক ইঞ্চি জমিও নদীতে বিলীন হয়ে যাক।

বরিশালের বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফরচুন সুজ কোম্পানির শ্রমিকরা ২ মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ ৮ দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কারখানার সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে কয়েকশ শ্রমিক মিছিল নিয়ে নগরের নতুনবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন।
এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান করছিলেন।
এদিকে, কোম্পানির মালিক মো. মিজানুর রহমানের চাচাতো ভাই ইমরান হোসেন ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের একাংশ তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করলেও নিয়ম অনুযায়ী ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হয় না। এছাড়া গত ২ মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। প্রতি বছরের জানুয়ারিতে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও চলতি বছরের ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় কাজ করেও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কর্মস্থলে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির পাশাপাশি নারী শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাও নেই।
শ্রমিকদের ৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ২ মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, প্রতি মাসের বেতন ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়া, বিকেল ৫টার পর কাজ করলে ওভারটাইম ভাতা নিশ্চিত করা, প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর, চলতি বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাস্তবায়ন, জেনারেল ম্যানেজারের পদত্যাগ, শ্রমিক পরিবহনের মানোন্নয়ন, কর্মস্থলে হয়রানি বন্ধ এবং নারী শ্রমিকদের জন্য পৃথক পোশাক পরিবর্তন কক্ষ ও ক্যানটিন চালু।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। পরে শিল্পনগরী ও নতুনবাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে ফরচুন সুজ কোম্পানির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিষিদ্ধ যুবলীগ কর্মীর দায়ের করা মামলায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার (২৯ জুলাই) ভোলা জেলা দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন না-মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে তার পরিবার ও বিএনপি কর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বাদীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আসামিরা বাদীর বসতঘরে তালা দেয় এবং বাদীকে মারধর করেন।
জানা গেছে, মামলায় তার দুই ছেলেকেও আসামী করা হয়েছে। তারা উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। বুধবার নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত দুই ছেলের জামিন মঞ্জুর করলেও আলামগীর মালতিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী যুবলীগ কর্মী মো. ছালাম বলেন, ‘আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আমার বসতঘরে তালা দিয়ে আমাকে মারধর করেছে। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে দেননি, থানায় মামলা করতেও দেননি। পরে আমি আদালতে মামলা করেছি।’
এদিকে বর্ষিয়ান এ নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, আলমগীর মালতিয়ার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ চরফ্যাশন উপজেলা যুবলীগ কর্মী মো. ছালাম বাদী হয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলাটি দায়ের করে।
বিএনপির তৃণমূল নেতা হোসেন খান বলেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে আলমগীর মালতিয়া ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অটল-অবিচল ভুমিকা পালন করেছেন। বিএনপিকে সংগঠিত রাখতে তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মিথ্যা মামলায় তার কারাগারে যাওয়ার ঘটনা হতাশাজনক।’
দলটির উপজেলা পর্যায়ের আরেক নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপির কিছু নেতার সহায়তায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনেক অপরাধী পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছে। তারাই এখন এনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিচ্ছে।
এ ঘটনায় মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বড় ছেলে ফাহাদ হোসেন মালতিয়া সাংবাদিকদের জানায়, ‘বিরোধপূর্ণ জমিগুলো আমার দাদা ওয়াহেদ আলী মালতিয়ার। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাদীপক্ষ ক্ষমতার প্রভাব দিয়ে দখলে নেয়। জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরফ্যাশন আদালতে ভিন্ন একটি দেওয়ানি মামলা রয়েছে। অথচ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ওই যুবলীগ নেতাকে দিয়ে আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করেছে। আমরা মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপকূলীয় মানবাধিকার সংগঠন রাইটস ফর কোস্টাল পিপল (আরসিপি) এর চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক বলেন, ‘আলমগীর মালতিয়া বিএনপির ত্যাগী নেতা। বিগত সরকারের সময়ে তিনি বিএনপিকে বলিষ্ঠভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন যদি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাকে জেলে যেতে হয় সেটি বেদনাদায়ক। তাকে কারাগারে পাঠানোর পর অনেক মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই ঘটনায় যতটুকু জানা যাচ্ছে জমি জমা বিরোধের একটি দেওয়ানি মামলা চলমান আছে। এই অবস্থায় একই ঘটনায় চাঁদাবাজির মামলা প্রতিহিংসামূলক বলেই মনে হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুবলীগ কর্মীর দ্বারা এ ধরণের মামলার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরণের অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।’

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার বিশেষ অভিযানে জিন হাজির করে স্বর্ণ দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন দুলারহাট থানার মজিবনগর এলাকার মোসা. রুমা (৩০), মোসা. মুক্তা (২৬), মো. স্বপন ফরাজী (৫০) ও মো. আলামিন (২৬)।
দুলারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিন আলম চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার বিকেলে নুরাবাদ ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় প্রতারণার উদ্দেশ্যে চক্রটি স্বর্ণ হাতিয়ে নিতে আসে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং চারজনকে আটক রেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সময় তাদের কাছ থেকে ৪ ভরি ১২ আনা (৫৫.৪৫ গ্রাম) ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের রুলি, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১২ আনা ৩ রত্তি (৯.১৬ গ্রাম) ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের ঝুমকা এবং নগদ ৫২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এর আগে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নুরাবাদ ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল মুন্সির বাড়িতে ইয়ানুর বেগমের বসতঘরে একই কৌশলে প্রতারণার ঘটনা ঘটে। তখন চক্রটি স্থানীয় ১৭ জন নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে জ্বিন হাজিরের মাধ্যমে স্বর্ণ দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেয়।
প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন ওজনের মোট ১০ ভরি ১১ আনা স্বর্ণালঙ্কার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। স্বর্ণ নিয়ে চক্রটি আত্মগোপনে চলে যায়। পরে মঙ্গলবার পুনরায় একই এলাকায় প্রতারণার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চলছে এইচএসসি পরীক্ষা। এমন সময়ই নেমে আসে জীবনের সবচেয়ে কঠিন শোক। বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মৌ। তার এই মানসিক দৃঢ়তা ও দায়িত্ববোধ এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি জীববিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নেন আয়েশা। তিনি পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। নজিপুর মহিলা কলেজ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আয়েশার বাবা মিজানুর রহমান মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকার ইবনেসিনা হাসপাতালে ফুসফুসজনিত রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাবার মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এলেও পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আয়েশা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মরহুম মিজানুর রহমান নজিপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ধামইরহাট উপজেলার গাংরা ইসলামিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বুধবার সকাল ৯টায় তার পৈতৃক বাড়ি মঙ্গলবাড়ি গ্রামে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে, শোকের এমন মুহূর্তেও আয়েশার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার সাহস, মানসিক শক্তি এবং শিক্ষার প্রতি দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন।
এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা বলেন,"আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমাদের সবাইকেই একদিন পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে। কিন্তু পরীক্ষার সময় বাবার মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আয়েশার সচেতনতা ও মনোবলের প্রতি আমি সম্মান জানাই। তার সঙ্গে দেখা করে খোঁজখবর নেব এবং তার পাশে থাকার চেষ্টা করব।"

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আব্দুল করিম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) জারুলিয়াছড়ি সীমান্তের ৪৬ ও ৪৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১০০ মিটার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গরবিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন আউং থা পায়া পোস্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আব্দুল করিম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়াছড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মকতুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুল করিমসহ চারজন বিভিন্ন সময় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যাতায়াত করতেন। মঙ্গলবারও তারা সীমান্ত অতিক্রম করে সেখানে গেলে হঠাৎ স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আব্দুল করিম গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণে তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিস্ফোরণের পর তার সঙ্গে থাকা অন্য তিনজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আব্দুল করিমকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে স্থানীয়ভাবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানা এলাকার আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা মো. কামাল মিয়া বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। আহত যুবককে দ্রুত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটেছে বলে তারা জেনেছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হাসান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সুন্দরীখাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করে ১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
একই সঙ্গে খালের নাব্য ও সেচ সুবিধা বাড়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বছরে তিন ফসল উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, হাবলা উত্তরপাড়া হতে আরোহা জীবনেশ্বর ভায়া ছয়শত বিল পর্যন্ত সুন্দরী বাইকখাল ৪.২ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭০৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে ১.৬ কিলোমিটার কাজ শেষ করার পরও মোট ১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা অব্যয়িত থাকে। পরবর্তীতে সেই অর্থ নিয়ম মেনে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।খননের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলাধার সংরক্ষণে খালের পাড়ে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সুন্দরী বাইক খালের পাশে ১০০ টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।
পুরো প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইকবাল হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম , উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তারা।
প্রকল্পের সুফল সম্পর্কে স্থানীয় কৃষক মজিবর মিয়া বলেন, আগে খালে পানি না থাকায় চড়া দামে সেচ দিতে হতো, তাও তিন ফসল ফলানো কঠিন ছিল। কিন্তু এবার তিন ফসল অনায়াসে আবাদ করা যাবে। ইউএনও কাজ শেষে সরকারি টাকা ফেরত দিয়ে এক মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, খাল-বিল কৃষকদের জন্য এক বড় আশীর্বাদ, যা সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃখনন করছে। বাসাইলে প্রকল্পের কাজ আংশিক শেষে টাকা ফেরত দেওয়ায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনওকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাজের মান বজায় রেখে প্রকল্পটির ১.৬ কিলোমিটার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অব্যয়িত ১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৬ টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই খাল পুনঃখননের সুফল স্থানীয় কৃষকেরা দীর্ঘদিন ভোগ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ভুলবশত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে কক্ষ পরিদর্শককে জানালে তাৎক্ষণিক ভুল প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পাশের কেন্দ্র থেকে প্রথম পত্রের প্রশ্নের ব্যবস্থা করা হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ৩০১ নম্বর রুমে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে পরীক্ষার কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে তিনজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কেন্দ্রটিতে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৪৯২ জন। এর মধ্যে ৩০১ নং কক্ষে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ৯ জন পরীক্ষার্থী ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অংশ নেন। বিষয়টির দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২৯ জুলাই।
এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির হল সুপারের দায়িত্বে থাকা সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষক আবুল কাশেমের ভাষ্য, প্রশ্নপত্রের খামের গায়ে প্রথম পত্র লেখা ছিল। সেই অনুযায়ী পশ্নপত্রের খাম নিয়ে আসা হয়। কিন্তু পরীক্ষার হলে খাম খোলার পর দেখা যায় ভেতরে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। পরে পাশের কেন্দ্র (সেতাবগঞ্জ সরকারি কলেজ) থেকে প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র এনে পরীক্ষা পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১০ মিনিট বিলম্ব হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের ১০ মিনিট বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকা তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, কেন্দ্র সচিবের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা কুশল চন্দ্র রায়, হল সুপার আবুল কাশেম এবং ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহিদা ফারজানা।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্ধারিত পদযাত্রা ও পথসভার পাশে একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাংনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে সবজিভর্তি একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে বোমাসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ওই এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সমাবেশস্থল থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে দীর্ঘ সময় ধরে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি গাংনী থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগটি উদ্ধার করে। পরে ব্যাগের ভেতরে বোমাসদৃশ একটি বস্তু দেখে সেটি নিরাপত্তার সঙ্গে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করেছে। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য থানায় আনা হয়েছে। বস্তুটি প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরক কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। পাশাপাশি কে বা কারা এটি সেখানে রেখে গেছে, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।’

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ বন্ধ করে সেই দায়িত্ব ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, কুলাউড়া পৌর শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক।
শনিবার (২৫ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান।
উক্ত ফেসবুক পোস্টে আতিক লেখেন, প্রান্তিক ও অস্বচ্ছল নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী ইশতেহার ছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে ছাত্রদলের প্রতিটা নেতাকর্মী তৃণমূলের নারীদের কাছে এই কার্ড বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন এবং জনগণের ভোট সংগ্রহে কাজ করেছেন।
তার দাবি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রাহক নিয়োগ দিলে বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমর্থকরা সুযোগ নিতে পারে।
তারা ইচ্ছে করে তথ্যে ভুল করে বর্তমান বিএনপি সরকার ও তারেক রহমানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পাশাপাশি তারা এই সরকারি সুবিধা নিজেদের দলের বলে প্রচারণা চালিয়ে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাই কোনো ধরনের পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের 'ভণ্ডামি' বন্ধ করে তথ্য সংগ্রহের মূল দায়িত্ব ছাত্রদলের জনশক্তির ওপর ন্যস্ত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি মনে করেন, ছাত্রদলের হাতে এই দায়িত্ব দিলে নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ সহজ হবে এবং নেতাকর্মীদের অবস্থান তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী হবে।
এদিকে কুলাউড়া পৌর ছাত্রদল আহ্বায়কের এই মন্তব্য ও দাবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্রাঙ্গণে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে গেলে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও এক পথচারী।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মিরপুর থেকে উত্তরাগামী পরিস্থান পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার পর ব্রেক ফেল হয়ে যায়। তখন চালক হাসপাতালের গেটসংলগ্ন গ্যাসের কন্ট্রোল রুমে ধাক্কা দেয়। এ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা এক পথচারী নিহত হন। আহত হন আরও এক পথচারী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউর। তিনি বলেন, 'চালক অনেকবার হর্ন দিয়েছিল। বাকিরা সরে গেলেও এক পথচারী মোবাইলে ব্যস্ত থাকায় গাড়ির নিচে পড়েছে। বাসটির ব্রেক ফেল হয়ে গিয়েছিল।'
তিনি আরও জানান, ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

গণভোটের রায় না মানলে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘গণভোটে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাব কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার বাস্তবায়ন না করলে জনগণই তাদের ক্ষমতাচ্যুত করবে।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় আয়োজিত পথসভায় এ কথা বলেন তিনি। এনসিপির তারাকান্দা উপজেলা শাখা এ পথসভার আয়োজন করে।
নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার এখন সময়ের দাবি। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে গণভোটের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
জনগণের রায়ের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পথসভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে দুর্নীতি, দখলদারত্ব ও দলীয়করণের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণদের নেতৃত্বেই রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলন সফল হবে।
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিক মোজাহিদ বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে এনসিপি কাজ করছে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে জনগণই।
তারাকান্দা উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে পথসভায় জেলা ও উপজেলা এনসিপি, যুবশক্তি এবং ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীমকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলেও তার সঙ্গে আসা নেতাকর্মীদের প্রবেশের অনুমতি না দেয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি ঘটনা ঘটে।
এ সময় ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পেরে নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকেই আদায় করেন আসরের নামাজ।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।
জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও ইসলাহী ইজতেমায় অংশ নিতে কুবি ক্যাম্পাসে আসেন মুফতি ফয়জুল করিম। তবে ক্যাম্পাসে আগে থেকেই বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রশাসন শুধু মুফতি ফয়জুল করীমকে প্রবেশের অনুমতি দেয়।
এ সময় নেতাকর্মীদের ঢুকতে না দেয়ায় প্রশাসনের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে বেশ কয়েকজন নেতা ঢুকতে পারলেও অধিকাংশই প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকের সামনেই জামাতে আসরের নামাজ আদায় করেন।
অন্যদিকে, মুফতি ফয়জুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করে দোয়া মাহফিলে অংশ নেন এবং নামাজ শেষে বিজয়-২৪ হলে স্থাপিত একটি ফার্স্ট এইড বক্সের উদ্বোধন করেন।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা মহানগরের এনামুল হক মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক মুফতি ফয়জুল করীমকে নিয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদে আসরের নামাজের পর জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিলের আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অনুমতির আবেদন করা হলেও তারা অনুমতি দেয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, আমরা শুধু মুফতি ফয়জুল করীমকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছি।
তিনি আরও জানান, বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় বহিরাগতদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নন, তাদের সবাইকেই বহিরাগত বলে মন্তব্য করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম।

ভোলার লালমোহনে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় মাইশা আক্তার নামে ৬ বছরের এক শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে করেছে স্থানীয়রা।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকালে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সৈনিক বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাইশা ওই এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকালে সৈনিক বাজার এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিল শিশু মাইশা। এ সময় ভোলা থেকে চরফ্যাশনগামী একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস তাকে সজোরে চাপা দেয়। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় শিশুটি। তবে দুর্ঘটনার পরপরই চালক বাসটি নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়।
এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে নেমে আসেন এবং সৈনিক বাজার এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, `দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতক বাস ও চালককে সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।