চরফ্যাশনে ‘৪ জিনের বাদশাহ’ গ্রেপ্তার

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার বিশেষ অভিযানে জিন হাজির করে স্বর্ণ দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন দুলারহাট থানার মজিবনগর এলাকার মোসা. রুমা (৩০), মোসা. মুক্তা (২৬), মো. স্বপন ফরাজী (৫০) ও মো. আলামিন (২৬)।
দুলারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিন আলম চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার বিকেলে নুরাবাদ ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় প্রতারণার উদ্দেশ্যে চক্রটি স্বর্ণ হাতিয়ে নিতে আসে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং চারজনকে আটক রেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সময় তাদের কাছ থেকে ৪ ভরি ১২ আনা (৫৫.৪৫ গ্রাম) ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের রুলি, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১২ আনা ৩ রত্তি (৯.১৬ গ্রাম) ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের ঝুমকা এবং নগদ ৫২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, এর আগে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নুরাবাদ ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল মুন্সির বাড়িতে ইয়ানুর বেগমের বসতঘরে একই কৌশলে প্রতারণার ঘটনা ঘটে। তখন চক্রটি স্থানীয় ১৭ জন নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে জ্বিন হাজিরের মাধ্যমে স্বর্ণ দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেয়।
প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন ওজনের মোট ১০ ভরি ১১ আনা স্বর্ণালঙ্কার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। স্বর্ণ নিয়ে চক্রটি আত্মগোপনে চলে যায়। পরে মঙ্গলবার পুনরায় একই এলাকায় প্রতারণার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।













