ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবিলা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘বিশ্ব কবিতা দিবস’ উপলক্ষে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রার পথে নানা সময় ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত এসেছে, ভবিষ্যতেও আসতে পারে। তবে সেসব বাধা অতিক্রম করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, তবু পিছু হটেননি। সেই মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও আদর্শ থেকেই নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ গঠনের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির বিকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে প্রবেশ করলেও দেশের ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি এবং লোকজ মূল্যবোধকে বিস্মিত হওয়া যাবে না। কবি-সাহিত্যিকরা যেভাবে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করার চেষ্টা করছেন, তা নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। এসব মূল্যবোধ শুধু ধারণ করলেই হবে না, নিয়মিত চর্চার মাধ্যমেও তা জীবন্ত রাখতে হবে।’
আহমেদ আযম খান বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জাতিকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় এনে দিয়েছে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ভিত্তিতেই একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের সাংস্কৃতিক চর্চা ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। মানুষ এখন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে সাহিত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও লোকজ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ কবিতার দেশ, গানের দেশ, যাত্রাপালার দেশ। আমাদের গল্প, গদ্য, পদ্য, আবৃত্তি, লোকসংস্কৃতি, ভাটিয়ালি গানসহ সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করেই একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় ইতিহাসের কাছে আমাদের সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে।’