মিসওয়াকের পদ্ধতি ও ২৪ উপকারিতা

মিসওয়াক হলো কোনো গাছের ডালের মাধ্যমে দাঁত মাজা। নবীজির অন্যতম সুন্নত এটি। এর গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেন, যদি আমি আমার উম্মতের ওপর কষ্ট হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তবে তাদের জন্য প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক বাধ্যতামূলক করে দিতাম।’ (সহিহ বুখারি: ৮৮৭)
মিসওয়াক কেমন হবে?
তিক্ত, কাঁচা ও নরম গাছের ডাল দ্বারা মিসওয়াক করা উত্তম। মহানবী (সা.) জয়তুন ও খেজুরগাছের ডাল দ্বারা মিসওয়াক করতেন। পিলুগাছের মিসওয়াক ব্যবহারে মস্তিষ্ক সতেজ হয়। দাঁতের ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অভাব পূরণ করে। ব্রাশ ব্যবহারে মুখ পরিষ্কার হয়, দুর্গন্ধ দূর হয় ও সুন্নত আদায় হয়। কিন্তু ডাল ব্যবহারে যে ফায়দা তা পাওয়া যায় না।
মিসওয়াক নিজ হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া উচিত। এতে মিসওয়াক করতে সুবিধা হয়।
মিসওয়াক করার পদ্ধতি:
মিসওয়াক করার সুন্নত পদ্ধতি হলো মুখের ডান দিক থেকে শুরু করা এবং ওপর থেকে নিচে মিসওয়াক করা। আড়াআড়িভাবে না করা। মাড়ির ভেতর ও বাইরে জিহ্বার গোড়া পর্যন্ত মিসওয়াক করা। মিসওয়াক ধরার সময় ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি মিসওয়াকের নিচে থাকবে। মধ্যমা ও তর্জনী ওপর এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচে থাকবে।
মিসওয়াকের পার্থিব উপকারিতা
আলী (রা.) বলেন ‘মিসওয়াক করার ফলে— ১. মস্তিষ্ক সজীব হয়। ২. দাঁত জীবাণুমুক্ত হয়। ৩. দাঁতের ক্যালসিয়াম পূরণ হয়। ৪. দারিদ্র্য দূর হয় এবং পরিবারে সচ্ছলতা আসে। ৫. পাকস্থলী রোগমুক্ত হয়। ৬. শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। ৭. মনে প্রফুল্লতা আসে। ৮. স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ৯. হৃদয় পরিচ্ছন্ন হয়। ১০. চেহারার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। ১১. দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়। ১২. মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।
মিসওয়াকের পদ্ধতি ও ২৪ উপকারিতা ১. ফেরেশতারা মিসওয়াককারীর সঙ্গে মুসাফাহা করেন। ২. আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তার জন্য ইস্তেগফার করেন। ৩. বিজলির মতো পুলসিরাত পার হবে। ৪. আমলনামা ডান হাতে পাবে। ৫. ইবাদতে আনন্দ পাবে। ৬. মৃত্যুর সময় কালেমা নসিব হবে। ৭. জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে। ৮. দোজখের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ৯. গুনাহমুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। ১০. আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। ১১. সুন্নত পালন করার সওয়াব প্রাপ্ত হবে। ১২. ইবাদতে ৭০ গুণ সওয়াব পাবে।
কখন করবেন মিসওয়াক
মিসওয়াক করার সময় ৯টি- যথা—১. নামাজের সময়, ২. কোরআন মাজিদ তিলাওয়াতের সময়, ৩. অজু করার সময়, ৪. ঘুম থেকে জাগ্রত হলে, ৫. মুখ দুর্গন্ধযুক্ত হলে, ৬. ঘুমানোর পূর্বে, ৭. দীর্ঘ সময় কথা বলার পর, ৮. পানাহারের পর, ৯. দুর্গন্ধযুুক্ত খাদ্য খাওয়ার পর।


